সানেমের সেমিনারে বক্তারা

মধ্যম আয় ও ঋণের ফাঁদে পড়েছে বাংলাদেশ

বাংলাদেশ এরই মধ্যে মধ্যম আয়ের ফাঁদে পড়ে গেছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। একই সঙ্গে ঋণের ফাঁদেও আটকে গেছে দেশ।

বাংলাদেশ এরই মধ্যে মধ্যম আয়ের ফাঁদে পড়ে গেছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। একই সঙ্গে ঋণের ফাঁদেও আটকে গেছে দেশ। বিগত সময়ে প্রবৃদ্ধির কথা বলা হলেও তার কোনো প্রভাব দেশের কর্মসংস্থানে দেখা যায়নি। বরং সব ক্ষেত্রেই পরিসংখ্যানের যথার্থতা প্রশ্নবিদ্ধ ছিল।

গতকাল গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) অষ্টম বার্ষিক অর্থনীতিবিদ সম্মেলনের প্যানেল আলোচনায় এসব কথা বলেন অর্থনীতিবিদরা। তিন দিনব্যাপী সম্মেলনের শেষ দিন বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক আলোচনায় অংশ নিয়েছেন দেশের অর্থনীতিবিদ, উন্নয়ন কর্মী ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

গতকাল দেশর অর্থনীতির ভারসাম্য ও সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে একটি প্যানেল আলোচনা হয়। সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান প্যানেল আলোচনা সঞ্চালনা করেন।

প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়ে অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, ‘এরই মধ্যে আমরা মধ্যম আয়ের ফাঁদে পড়ে গেছি। এখানকার বিনিয়োগ থমকে আছে। রফতানিও একই অবস্থা। মূল্যস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী। বৈদেশিক আয়ের চেয়ে ঋণ বাড়ছে। একইভাবে রাজস্ব আয়ের তুলনায় স্থানীয় ঋণ বড় হচ্ছে। আর টাস্কফোর্সের সুপারিশ নিয়ে রাজনৈতিক কোনো সদিচ্ছা তৈরি হবে কিনা সেটাই বড় প্রশ্ন এখন। বিগত সময়ে প্রবৃদ্ধির কথা বলা হলেও তার সঙ্গে কর্মসংস্থান বাড়েনি। কিছু ক্ষেত্রে বরং কমেছে। আমাদের পরিসংখ্যানের মান নিয়ে প্রশ্ন ছিল।’

অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমরা ঋণের ফাঁদেও আটকে পড়েছি। বড় বড় প্রকল্পের গ্রেস পিরিয়ড শেষ হচ্ছে। এখন আসল পরিশোধের সময় এসেছে। ২০২৬ সাল থেকেই রূপপুর প্রকল্পের আসল পরিশোধ করতে হবে। এটা প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলারের প্রকল্প। আমরা রফতানি আয় বেশি দেখাতাম। রফতানির ক্ষেত্রে পোশাক খাতেও বৈচিত্র্য আনার সুযোগ রয়েছে। অনেকে বলছেন, এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন পিছিয়ে দিতে। এটা বাস্তবসম্মত হতে পারে না। নেপাল ও ভুটান গ্র্যাজুয়েশন করেছে। আমরা আফগানিস্তানের সঙ্গে বসে থাকতে পারি না। ভর্তুকি থেকে এখন উৎপাদন সক্ষমতার দিকে যেতে হবে আমাদের।’

ড. কেএএস মুর্শিদ বলেন, ‘কৃষিতে স্বল্পমূল্যের প্রযুক্তি কীভাবে কৃষকের হাতে পৌঁছে দেয়া যায় সেটাই এখন বড় বিষয়। নতুন জাত উদ্ভাবনের দিকে আমাদের নজর দিতে হবে। সরকার দুই চাকার ট্রাক্টর প্রান্তিক এলাকায় ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে।’

আলোচনায় অংশ নিয়ে ড. রুমানা হক বলেন, ‘আমাদের দেশে মাথাপিছু চিকিৎসা ব্যয় মাত্র ৪২ ডলার। যদিও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ অনুসারে মাথাপিছু ৮৮ ডলার ব্যয় করার কথা। এখানকার স্বাস্থ্য বরাদ্দ মোট বাজেটের মাত্র ৫ শতাংশ। এটা করোনাকালেও বাড়েনি।’

আরও